তাবলীগ জামাত ও আমার কিছু কথা

বিসমিল্লাহীর রহামনির রাহীম

তাবলীগ জামাত এর বিরুদ্ধাচরন কারিদের এই লিখাটা এবং অডিওটা শুনার জন্য অনুরুধঃ

আপনারা যারা অকাট্য ভাবে তাবলীগ জামাআতকে অহেতুক বাজে কথা বলেন। তাবলীগ জামাত এর নামে মিথ্যা অপপ্রচার করেন। তাবলীগ জামাত এর বিরুদ্ধে ফতওয়া বাজি করেন। আপনাদের কে বলছি আপনাদের ঈমান কি একেবারেই মরে গেছে? আপনারা কি সত্যিই দুনিয়ার অন্ধ হয়ে গেছেন? যদি তা না হয় তাহলে নিজের ঈমানকে প্রশ্ন করেন আপনাদের উলামায়ে কেরাম এবং পীর বুজুর্গদের প্রশ্ন করেন এধরণের কয়টা সিনেমা হল কে ভেঙ্গে মসজিদ আর মাদ্রাসায় পরিনত করতে পেরেছেন??

এক সময়ের পাকিস্তানের জাতীয় সিনেমা হল ছিল (নাগিনা) সিনেমা হল। যা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সিনেমা হল।
২০০২/২০০৩ সালের ঘটনা। এই সিনেমা হলের মালিক হচ্ছেন সাবেক সেনাবাহিনীর লেফটনেন্ট জেনারেল জনাব আকবর আলী খান সাব। যিনি এই সিনেমা হল থেকে কুটি কুটি টাকা উপার্জন করতেন।
আল্লাহ্‌ জাযায়ে খায়ের দান করুন ভাই আকবর সাবকে এবং মুফাক্কিরের ইসলাম হযরত মাওলানা তারেক জামীল সাবকে। যার দীর্ঘ পাঁচ বছরের মেহনতের ফসল হিসাবে সিনেমা হল পরিণত হয়েছে মসজিদ এবং মাদ্রাসায়।
মুফাক্কিরে ইসলাম মাওলানা তারেক জামীল সাব দীর্ঘ পাঁচ বৎসর ভিক্ষা চাওয়ার মতো নাগিনা সিনেমার মালিক ভাই আকবর সাবের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। শুধুমাত্র তিনটা দিন তাবলীগ জামাতে সময় দেওয়ার জন্য । আল্লাহ্‌ শেষ পর্যন্ত মাওলানা তারেক জামিল সাবের মেহনতকে কবুল করলেন।
২০০৩ সালের প্রথম দিকে ভাই আকবর রাজি হলেন যে তিনি মাওলানা তারেক জামিল সাবের সাথে তিনদিনের জন্য জামাআতে বের হবেন। অবশেষে তিনদিনের জন্য বের হয়ে মাশা আল্লাহ্‌ (১২০ দিন) অর্থাৎ তিন চিল্লা জামাআতে সময় দিয়ে আসেন। আর সে সময়েই আল্লাহ্‌ হেদায়েতের নূর ভাই আকবর সাবের দিলের মধ্যে মোহরের মতো লাগিয়ে দেন। যার ফলে সিনেমা হল পরিনত হল মসজিদ এবং মাদ্রাসায়।
ভাই জনাব আকবর সাব জামাআত থেকে আসার পরেই সিদ্দান্ত নিলেন সিনেমা হল ভেঙ্গে দেবেন। {সুবহান আল্লাহ্‌}
তাই পরামর্শ করতে গেলেন উনার স্ত্রি এবং সন্তানদের সাথে।
এমন অশুভ কথা (স্ত্রি সন্তানদের মতে) শুনে উনার স্ত্রি সন্তান তো তেলে বুগুনে জ্বলে উঠলেন। এটা কেমন কথা যেখান থেকে লক্ষ লক্ষ কুটি কুটি টাকা আসে তা ভেঙ্গে দেবেন।
অন্যদিকে আকবর সাবের ফাইনেল সিদ্দান্ত ছিল ভেঙ্গেই দেবেন।
এদিকে উনার স্ত্রি সন্তান সিনেমা হল না ভাঙ্গার রীট চেয়ে মামলা দায়ের করেন পাকিস্তানের হাই কোর্টে এক সময় মামলা রায় হয়। তাবলীগ জামাত
যেহেতু সিনেমার মালিক উনি একক ভাবে তাই উনার ইচ্চা উনি ভাংতে ও পারেন রাখতে ও পারেন।
অবশেষে ২০০৪ সালে মাওলানা তারেক জামিল সাব সহ দেশ বরেণ্য আলিম উলামাদের উপস্তিতিতে সিনেমা হল ভেঙ্গে পরিনত করলেন মুসজিদ এবং মাদ্রাসায়। তাবলীগ জামাত


আল্লাহ্‌ এই তাবলীগের মেহনতের বদৌলতে আজ সারা পৃথিবীতে কুথাও না কুথাও হেদায়েতের নুরে নুরান্নিত করতেছে অগনীত মানুষকে । কিন্তু যারা অন্দ তারা তা দেখেনা। আবার কিছু আছে দুনিয়া লোভী যারা দেখেও না দেখার ভান করে। আবার কিছু আছে নিজের মান মর্যাদা ক্ষুন্ন হবার ভয়ে তা মেনে নেয়না। সেই মক্কার মুশরিকরা ও নিজের শান শওকাত আর সরদারী চলে যাবার আসংক্ষায় রাসুল সঃ কে এবং রাসুল সঃ এর দাওয়াত কে মেনে নেয়নাই। কারন মেনে নিলে তারা মুহাম্মদ সঃ এর গুলামি করতে হবে রাসুল সঃ এর অনুসরণ আর অনুকরণ করতে হবে তাই।
আজও যারাই তাবলীগের বিরুধীতা করে তাদের ও এই একি ভয়। যা মক্কার মুশরিকীনদের ছিল। পার্থক্য শুধু এটাই যে এরা মুসলমান হয়ে বিরুধীতা করে আর ওরা মুশরিক হয়ে করেছে। তাবলীগ জামাত


তাবলীগ জামাত এর এই মেহনতেই এধরনের অনেক মানুষ হেদায়েত পেয়েছে। কিন্তু অন্ধরা দেখবেনা।
ইল্লাহ মাশা আল্লাহ্‌ যতই বেশি বিরুধীতা হচ্ছে ততোই বেশি দাওয়াতে তাবলীগের কাজ আগে বাড়তেছে। আলহামদুলিল্লাহ। এক সময় বিশ্ব ইজতেমা ছিল বিশ হাজারের ধিরে ধিরে আজ এক এক পর্বে বিশ ত্রিশ লাখে পরিনত হয়েছে (আলহামদু লিল্লাহ)।

তাই সকল কথার শেষে আরেকটি কথা বলতে ইচ্ছা করছে, “আপনার-আমার মত লোক তাবলীগ জামাত করুক আর নাই করুক, তাতে দ্বিনের এই দাওয়াতের কাজ তাবলীগ জামাত এর কিছুই আসে যায় না। প্রয়োজনে মহান আল্লাহ-তায়ালা ইচ্ছা করলে কাফের-ইহুদী-খ্রিষ্ঠান-মুশরিক-নাস্তিক দের ঈমানাওয়ালা বানিয়েও এই তাবলীগ জামাত এর দ্বিনি দাওয়াতি কাজ করিয়ে নিবেন। এমনকি রাসূল (স:) এর যুগে আল্লাহ তায়াল এক রাখালকে বনের বাঘ দ্বারাও দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছিলেন (সুবহান আল্লাহ) তাই তাবলীগ জামাত এর এই দাওয়াতী কাজ কোন মানুষের দ্বারা ভাংতেও পারে না গড়তেও পারে না। আমরা তো শুধু তাবলীগ জামাত এর দাওয়াতি কাজ করছি নিজের ঈমান-এক্বিনের পরিপূর্ণতার জন্য, তথা নিজেকে বাঁচাবার জন্য।”


বিঃদ্রঃ এটা আমার মুখের কথা নয়। কেউ চাইলে মাওলানা তারেক জামিল সাবের বয়ান শুনে নিয়ে সত্যতা যাচাই করেন।

https://www.mediafire.com/?cm34vy30r4yds92

(তাবলীগ আমার কাজ)

বাইজিদ আহমেদ সিয়াম

আমার ব্লগিং জীবন তেমন সুদীর্ঘ নয়। টেকটোন্সবিডিতেই ব্লগিং জীবনের প্রাথমিক পদাচারণ। তাই ভালোলাগে টেকটোন্সবিডিকে। তবে নামাজ পড়া আমার প্রধান শথ। আপনার?

More Posts - Website

Follow Me:
Facebook

4 thoughts on “তাবলীগ জামাত ও আমার কিছু কথা

Leave a Reply