পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহার ওতা নিয়ে হাটাহাটি করার হুকুম কি?

পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহার ও
তা নিয়ে হাটাহাটি করার হুকুম কি?
উত্তর :
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
ইস্তিঞ্জা দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হল
নাপাক পরিস্কার হওয়া।
যেভাবে তা পরিপূর্ণ পরিস্কার হয়
সেভাবেই তা পরিস্কার করা উচিত।
আর এক্ষেত্রে খেয়াল
রাখতে হবে পেশাবের ফোটা যেন
শরীরে না লাগে। কারণ
হাদীসে এসেছে অধিকাংশ মানুষের
কবরের আজাব হয়ে থাকে পেশাবের
ফোটার কারণে।
সেই হিসেবে যেহেতু পানির
দ্বারা নাপাক বেশি পরিস্কার হয়,
তাই
পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা সুন্নত। আর
ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ।
{তিরমিজী-১/২৯,
মুসতাদরাকে হাকেম-১/১৫৫,
হেদায়া-১/৪৮, শরহে নুকায়া-১/৪৮,
শরহে বেকায়া-১২৭}
ﻋَﻄَﺎﺀُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻣَﻴْﻤُﻮﻧَﺔَ ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺃَﻧَﺲَ ﺑْﻦَ ﻣَﺎﻟِﻚٍ،
ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ‏«ﺇِﺫَﺍ ﺧَﺮَﺝَ
ﻟِﺤَﺎﺟَﺘِﻪِ، ﺃَﺟِﻲﺀُ ﺃَﻧَﺎ ﻭَﻏُﻼَﻡٌ، ﻣَﻌَﻨَﺎ ﺇِﺩَﺍﻭَﺓٌ ﻣِﻦْ ﻣَﺎﺀٍ، ﻳَﻌْﻨِﻲ
ﻳَﺴْﺘَﻨْﺠِﻲ ﺑِﻪِ »
আতা বিন আবী মাইমুনা বলেন,
আমি শুনেছি আনাস বিন মালিক
রাঃ বলেছেন, রাসূল সাঃ যখন
প্রয়োজন সম্পন্ন [টয়লেটে যাবার জন্য]
করার জন্য বের হতেন, তখন আমি ও
আরেক ছেলে আসতাম। আমাদের
সাথে পানির পাত্র থাকতো। অর্থাৎ
এ দিয়ে রাসূল
সাঃ ইস্তিঞ্জা করতেন। {বুখারী,
হাদীস নং-১৫০}
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
ﻭَﻣَﻦْ ﺍﺳْﺘَﺠْﻤَﺮَ ﻓَﻠْﻴُﻮﺗِﺮْ، ﻣَﻦْ ﻓَﻌَﻞَ ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺣْﺴَﻦَ، ﻭَﻣَﻦْ ﻟَﺎ ﻓَﻠَﺎ
ﺣَﺮَﺝَ،
যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন
বেজোড় ব্যবহার করে।
যে তা করবে সে উত্তম কাজ করল, আর
যে করেনি তাতে কোন সমস্যা নেই।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫}
ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা
আসলে ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা জরুরী বিষয়
নয়। এটি দেখতেও সুন্দর দেখায় না।
কিন্তু ইস্তিঞ্জার ক্ষেত্রে আবশ্যক হল
পেশাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
এটি আবশ্যকীয়।
ভাল করে বুঝে নেই।
ঢিলা হাতে হাটাহাটি কোন
জরুরী বিষয় বা সুন্নত নয়। কিন্তু
পেশাবের
ফোটা থেকে নিজেকে মুক্ত
রাখা আবশ্যকীয় বিষয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়।
এ বিষয়ে আমরা দু’টি হাদীস লক্ষ্য
করি-

ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ، ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺮَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﺑِﻘَﺒْﺮَﻳْﻦِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ” ﺇِﻧَّﻬُﻤَﺎ ﻟَﻴُﻌَﺬَّﺑَﺎﻥِ، ﻭَﻣَﺎ ﻳُﻌَﺬَّﺑَﺎﻥِ ﻓِﻲ ﻛَﺒِﻴﺮٍ،
ﺃَﻣَّﺎ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ: ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻨْﺰِﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺒَﻮْﻝِ – ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻛِﻴﻊٌ:
ﻣِﻦْ ﺑَﻮْﻟِﻪِ – ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﺂﺧَﺮُ : ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻳَﻤْﺸِﻲ ﺑِﺎﻟﻨَّﻤِﻴﻤَﺔِ “.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস
রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদা রাসূল সাঃ দু’টি কবরের পাশ
দিয়ে অতিক্রম হচ্ছিলেন। বললেন, এ
দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। কোন বড়
কারণে আজাব হচ্ছে না। একজনের
কবরে আজাব হচ্ছে সে পেশাব
থেকে ভাল
করে ইস্তিঞ্জা করতো না। আরেকজন
চোগোলখুরী করতো। {মুসনাদে আহমাদ,
হাদীস নং-১৯৮০, বুখারী, হাদীস
নং-১৩৬১}

ﻋَﻦْ ﻋِﻴﺴَﻰ ﺑْﻦِ ﻳَﺰْﺩَﺍﺩَ ﺍﻟْﻴَﻤَﺎﻧِﻲِّ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: ‏«ﺇِﺫَﺍ ﺑَﺎﻝَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ
ﻓَﻠْﻴَﻨْﺘُﺮْ ﺫَﻛَﺮَﻩُ ﺛَﻠَﺎﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺕٍ »
হযরত ঈসাব বিন ইয়াযদাদ
আলইয়ামানী তার
পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল
সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের
কেউ পেশাব করে, তখন সে যেন তার
লজ্জাস্থানকে তিনবার ঝেড়ে নেয়
বা পবিত্র করে নেয়।
{সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩২৬}
যেহেতু পেশাব এমন বস্তু। যার
ছিটা শরীরে লাগলে কবরের আযাব
হয়ে থাকে। আর হাদীসেও
লজ্জাস্থানকে ঝেড়ে পবিত্র করার
কথা এসেছে। তাই যাদের পেশাব
করার পর পেশাবের
ছিটা ফোটা ফোটা করে পড়ে,
তাদের উচিত কিছুক্ষণ
হেটে তা পবিত্র করা।
নতুবা পেশাবের
ছিটা শরীরে লাগার দরূন মারাত্মক
গোনাহ হবে। যা কবরের আযাবের
কারণ হবে। সেই সাথে কাপড়
থাকবে নাপাক। আর নাপাক কাপড়
দিয়ে নামায হয় না।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে যাদের পেশাবের
ফোটা পেশাব শেষ করার পর পড়ে না।
তাদের
পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করলেই যথেষ্ট।
কিন্তু যাদের বের হয় তাদের কবরের
আযাব থেকে রক্ষা পাবার আশায়
কিছুক্ষণ হেটে হলেও
তা থেকে পবিত্রতা অর্জন
করে নেয়া জরুরী।
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউ

মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম রনি

#আমার সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। তবে নিজেকে মহান আল্লাহ-তায়ালার একজন নগণ্য বান্দা হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসি। আমার একটি অন্যতম শখ হচ্ছে, বেশী থেকে বেশী প্রযুক্তিকে জানতে ও জানাতে। এর প্রয়াসেই বিভিন্ন ব্লগে পোষ্ট করে থাকি। একবার আমার ব্লগ সাবাইকে দাওয়াত- www.pchelpcarebd.blogspot.com # দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণ করো।----- আলহাদীস। প্রযুক্তির সূরে মেতে উঠুক, বাংলার প্রতিটি মানুষ.......

More Posts - Website

Follow Me:
Facebook

Leave a Reply