মাহে রমযানের পূর্বে আমাদের করণীয়

By | মে 24, 2013

ইসমাইল হোসেন মুফিজী : রমযানের আগমনকে নিয়ে আসমান ও জমিনে প্রস্তুতির কোন অন্ত নেই। রমযান এলে সমস্ত সৃষ্টিজগত জুড়ে সাড়া পড়ে যায়। দুনিয়ার মানুষ মহান একটি ইবাদাতের জন্য নিজেকে যেমন তৈরি করে তেমনি আল্লাহপাকও বান্দার জন্য বেহেশত সজ্জিত করেন এবং অগণিত নাজ-নিয়ামতে তা পূর্ণ করে রাখেন। মহানবি সা. এরশাদ করেন, ‘যখন রমযানের প্রথম রাত্রি আগমন করে শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের শৃক্মখলিত করা হয়, জাহান্নামের সকল দরোজা বন্ধ করে দেয়া হয়; কোন দ্বার খোলা রাখা হয় না, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়; বন্ধ রাখা হয় না কোন তোরণ। এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন- ‘হে পুণ্যের অনুগামী, অগ্রসর হও। হে মন্দ-পথযাত্রী থেমে যাও।’ আবার অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এমনটি করা হয় রমযানের প্রতি রাতেই’। (তিরমিযি : ৬৮৪, ইবনে মাজাহ : ১৬৪২, ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৩)। মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘‘মানুষের প্রত্যেকটি কাজের ফল আল্লাহর দরবারে কিছু না কিছু বৃদ্ধি পায়। কাজের ফল দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, রোযা কেবল মাত্র আমার জন্য। এর প্রতিদান আমি নিজেই দেব।’’ (হাদিসে কুদসি)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই উন্মুক্ত ও সজ্জিত জান্নাত এবং তাঁর নিজ হাতে প্রদত্ত প্রতিদান পেতে মাহে রমযানের পূর্বে নিম্নে বর্ণিত আমাদের করণীয় কার্যাদি সম্পন্ন করতে হবে।

মাহে রমযানের পূর্বে আমাদের প্রথম কাজ হলো রমযানকে পাওয়ার জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে বারবার দোয়া করা, যেন আল্লাহ হায়াত দীর্ঘ করে আমাদেরকে মাহে রমযানে পৌঁছে দেন। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. রজব মাসের শুরু থেকেই এই দোয়া পাঠ করতেন : ‘‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রামাযান।’’ অর্থাৎ- ‘‘হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবানের বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’’ (বায়হাকি, জামে সগির : ৫/১৩১)। মাহে রমযানের পূর্বে কিছু রোযা রেখে অভ্যাস করা দরকার। নিজেকে রোযার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শাবানের কয়েকটি রোযা অত্যধিক কার্যকর। হযরত আয়শা রা. বলেন, ‘‘শাবানের তুলনায় অন্য কোন মাসে আমি তাকে (রাসুল সা.) এত অধিক-হারে রোযা পালন করতে দেখিনি। তিনি শাবানের প্রায় পুরোটাই রোযায় অতিবাহিত করতেন। কিছু অংশ ব্যতীত তিনি পুরো শাবান মাস রোযা রাখতেন। (মুসলিম : ১১৫৬)। মহিলাদের পূর্ববর্তী বছরের ছুটে যাওয়া রোযাসমূহের কাযা আদায় করে নিতে পারেন শাবান মাসেই। হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, রাসুলে করিম সা. শাবান মাসের অধিকাংশ দিনে রোযা রাখতেন। হযরত আয়শা সিদ্দিকা রা. রমযান মাসের কাযা রোযাসমূহ পরবর্তী রমযান মাসে রাখতেন। (তিরমিযি)। ফরয নামাজের পূর্বের ও পরের সুন্নতের অনুরূপ শাবান মাসের কয়েকটি রোযা এবং শাওয়াল মাসের ছয় রোযা পালন করা সুন্নত। সেই সাথে সকল মুসলমান নারী-পুরুষের উচিত পবিত্র রমযানে পালিত যাবতীয় ইবাদাত বিষয়ক বিধি-বিধান সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা। এজন্য তারা রমযান বিষয়ক বই-পত্র অধ্যয়ন করবেন, অডিও-ভিডিও প্রোগ্রাম শ্রবণ ও দর্শন করে স্বচ্ছ ধারণা লাভে প্রয়াস চালাবেন। রোযার মাসাইল, আহকাম ও আদাব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য হাজির হবেন ইলমের মজলিসসমূহে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়া এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষার্থে অশ্লীলতার প্রচার বন্ধ রাখা প্রয়োজন। তাতে সচেতন মুসলিম জনগোষ্ঠি রমযানের আমলসমূহের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে সুযোগ পাবে।

মাহে রমযানের পূর্বে রমযান সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। যাতে ইসলামিক স্কলারগণ রমযানের গুরুত্ব ও করণীয় ব্যাখ্যা করবেন। ইসলামি সঙ্গীত শিল্পীদের অংশগ্রহণে রমযান বিষয়ক সঙ্গীত পরিবেশন করলে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হবে। মসজিদ-মক্তব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, অডিটরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন, টিডিসি হল, খেলার মাঠসহ সকল উন্মুক্ত স্থানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে যুবক শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত সালমান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা শাবান মাসের শেষ দিবসে রাসুলুল্লাহ সা. আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান পূর্বক এরশাদ করলেন, ‘‘হে লোক সকল, তোমাদের সামনে একটি মহান মাস আগমন করছে। এই মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাস হতেও উত্তম। আল্লাহ পাক এই মাসে রোযা ফরয করে দিয়েছেন এবং এর রাত্রিতে তারাবিহের নামায সুন্নত করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি নফল কাজ করবে সে অন্য মাসে ফরয আদায়কারীর সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি একটি ফরয কাজ করবে সে অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায়কারীর সমতুল্য হবে। এই মাস ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের পুরস্কার একমাত্র বেহেশত এবং এটা পারস্পরিক সমবেদনা জ্ঞাপনের মাস। এই মাসে মুমিন বান্দার রিযিক বৃদ্ধি করা হয়।’’ এ প্রসঙ্গে আরও একখানা হাদিস উল্লেখ রয়েছে, হযরত সালমান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সা. রমযানের পূর্বে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন এবং বলতেন, তোমাদের নিকট রমযান মাস আসছে। রমযান উদযাপনের জন্য তোমরা কোমর কষে নাও এবং তোমাদের নিয়তসমূহ ঠিক করে নাও। রমযানের মর্যাদা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড়। তোমরা রমযানের মর্যাদা নষ্ট কর না। কারণ এ মাসে পাপ পূণ্য দ্বিগুণ করা হয়। (দায়লামি, কানজ : ৮/৫৮১)। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সঙ্গী-সাথীদের এ মর্মে সুসংবাদ শোনাতেন- ‘তোমাদের সমীপে রমযান মাস এসেছে। এটি এক মোবারক মাস। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর এ মাসের রোযা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বার খোলা হয়। বন্ধ রাখা হয় জাহান্নামের দরোজা। শয়তানকে বাঁধা হয় শিকলে। এ মাসে একটি রজনী রয়েছে যা সহস্র মাস হতে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে যেন যাবতীয় কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’ (আহমদ : ২/২৩০)। সুতরাং উপরোক্ত তিনটি হাদিসের অনুসরণে আমাদেরও উচিত মাহে রমযানের পূর্বে সর্বস্তরের জনতার উদ্দেশ্যে রমযান সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা এবং রমযানের করণীয়-বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে সচেতন করা। সেই সাথে ছোট ছোট পুস্তিকা, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদির মাধ্যমে মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষার্থে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। এ সংক্রান্ত একটি র‌্যালির আয়োজন করা গেলে এ কাজটি আরও বেশি ফলপ্রসূ হয়। সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রণয়ন ও বিতরণ করলে আগে থেকেই মানুষের মন রমযানের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং মাহে রমযানের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। এ ব্যাপারে দেশের শাসক গোষ্ঠী আন্তরিক হলে আরও সহজে এই কাজটি সূচারুরূপে আঞ্জাম দেয়া সম্ভব।

মাহে রমযান আগমনের পূর্বে মাহে রমযানকে অভ্যর্থনা জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি কারো পিতা বিদেশ থাকেন এবং দীর্ঘদিন পর দেশে আসার কথা থাকে, তাহলে সন্তানরা যেমন সেই দিনটির জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষায় থাকে; তেমনি মুমিনের উচিত রমযানের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণতে থাকা এবং রমযান আসার সাথে সাথে তাকে স্বাগত জানিয়ে কবুল করা। আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহ. (১৮৬৩-১৯৪৩) বলেন, রমযান মাসকে অতি আগ্রহ ও উদগ্রীবের সাথে অভ্যর্থনা করুন। (খুতবাতুল আহকাম বাংলা পৃ. ১৫৪)। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত নবী করিম সা. এরশাদ করেন, ‘সুবহানাল্লাহ’ তোমরা কার সংবর্ধনা করছ এবং কে তোমাদের সামনে আসছে? আসছে মাহে রমযান যার প্রথম রাতেই আল্লাহ তায়ালা আহলে কিবলা তথা মুসলিম জাতিকে ক্ষমা করে দেন। একজন সাহাবি প্রশ্ন করলেন, মুনাফিকরাও কি মাফ পেয়ে যাবে? রাসুল সা. বলেন, মুনাফিকরাতো কাফির এবং কাফিরের মাগফিরাত নেই। (বায়হাকি, কানজুল উম্মাল : ৮/৪৭৯)। অত্র হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, আহলে কেবলা বলতে যে সকল মুসলিম রমযানের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে এবং রমযানের হক পরিপূর্ণ রূপে আদায় করবে তাদেরকেই মূলত মাফ করে দেয়া হবে। তাই মাহে রমযানের আগমনে যেন মন ও মননে উদ্বেলিত হতে থাকে আনন্দের দোলা। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারি রহ. (৮৩৮-৯২৩ খৃ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেন, ‘‘আনন্দের উপকরণ হল আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কোরআন, ইসলামের ফরজ বিধি-বিধান, ও আনুষঙ্গিক সম্পূরক বিষয় সমূহ-যার অন্যতম হলো সিয়াম। (জামিউল বায়ান ফি তাওইলিল কুরআন, খন্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৫৬৮)। অনেকেই মনে করেন, রমযান কষ্টের মাস তাতে আবার আনন্দ কী? আসলে মুমিন বান্দাতো তারাই যারা আল্লাহর হুকুম পালন করে আনন্দিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘আপনি বলুন, আল্লাহর ফযল ও করুণায় এই হয়েছে (আল্লাহর পক্ষ থেকে উপদেশ বাণী এসেছে)। এর মাধ্যমেই তারা যেন আনন্দিত হয় (সন্তুষ্ট থাকে)। তারা যা সঞ্চয় করে, সে তুলনায় তা উত্তম।’’ (সূরা ইউনুস : ৫৮)। আল্লাহ তা’আলা কারুন গোত্রের প্রসঙ্গে এরশাদ করেছেন, ‘‘তুমি আনন্দিত হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা (অনৈতিক উপায়ে) আনন্দিতদের পছন্দ করেন না।’’ (সূরা কাসাস : ৭৬)।

রোযা শুরুর আগেই তারাবিহের ইমাম নির্ধারণ করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় মুসল্লিগণ অতি দ্রুতগতি সম্পন্ন তিলাওয়াতকারী ইমাম সাহেবকে পছন্দ করেন বেশি। যিনি যত তাড়াতাড়ি নামায শেষ করেন তিনি তত ভাল ইমাম এবং সেই মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা দিতেই কর্তৃপক্ষ হিমশিম খান। না, এরকম দৃষ্টিভঙ্গি তাকওয়ার খেলাপ শুধু নয়, তাতে নামায অশুদ্ধ হয়ে যাবার ভয় রয়েছে। তাই বিশ্রামের সাথে ধীর স্থির ভাবে নামায আদায়ের মনোভাব আগে থেকেই তৈরি করে নিতে হবে। রোযা দীর্ঘ সময় ব্যাপি একটি ইবাদাত। নামায পড়লে সর্বোচ্চ পনের-বিশ মিনিট প্রয়োজন। কিন্তু রোযার সময় হল পূর্ণ চবিবশ ঘণ্টা। এই চবিবশ ঘণ্টা সময় কিভাবে কাটাতে হবে তার একটি দৈনিক রুটিন বা কার্যতালিকা একান্তই নিজের পছন্দ মত আগে থেকেই প্রণয়ন করে নিতে হবে। রুটিনে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকারসহ সকল ভাল কাজের উল্লেখ থাকতে হবে। অনেক লোক এমন আছেন যিনি সিয়াম সাধনার পাশাপাশি অশ্লীল সিনেমা দেখে অলস সময় কাটান। আমাদের মনে রাখতে হবে শুধু উদরের রোযা নয়- হাত, পা, চোখ, কান ও হৃদয়সহ সারা অঙ্গের রোযাই হলো প্রকৃত রোযা। শিশুদেরকে রোযার প্রতি যথাসাধ্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। রমযানের আনন্দের ভাগ তাদেরকেও দিতে হবে। ছোট বেলায় দুয়েকটা রোযা রেখে অভ্যস্ত হলে পরবর্তীতে সব কটি রোযা রাখা তাদের জন্য অতিশয় আরামদায়ক হবে। এমনকি রোযা রেখে তারা তৃপ্তিও অনুভব করবে। দরিদ্র জনগণের খোঁজ-খবর নিতে অন্তত একটি পরিবারে যাওয়া প্রয়োজন। রোযার আগেই তাদের প্রতি দানের হস্ত প্রসারিত করে ধনী-গরিব সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। পরিবারের জন্য প্রথম রোযার সেহরি ও ইফতারের প্রয়োজনীয় খাবার কিনে রাখলে ভাল হয়। যেমন- ছোলা, বেগুন, পেঁয়াজ, মুড়ি, সরিষার তেল, খেজুর ইত্যাদি। অনেকেই একসাথে সারা মাসের বাজার কিনে রাখেন। তাঁরা মনে করেন পরবর্তীতে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। মূলতঃ ব্যাপারটি সেরকম নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল ও কঠিন হয়। এক সাথে খাদ্য বস্তুর এত অধিক চাপ সহ্য করা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কর্তৃপক্ষের দ্বারা সম্ভব হয়ে উঠে না। শুরু হয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তাই খাদ্য আয়োজনে এত বেশি ব্যস্ত না হয়ে ইবাদাত ও সংযমে মনোনিবেশ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীগণ অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য মাল মজুদ করেন। এই কাজটি অত্যন্ত গর্হিত। রোযাদারের সুবিধার্থে মাহে রমযানে প্রয়োজনীয় সকল বস্তু বাজারে উন্মুক্ত রেখে মূল্য স্থিতিশীল রাখা ব্যবসায়ী ভাইদের ঈমানি দায়িত্ব।

উপরে উল্লেখিত সকল করণীয় কার্য সম্পাদনের পর সবশেষে আমাদের দায়িত্ব হলো মাহে রমযানের চাঁদ দেখা। এ ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মানুষ সম্মিলিতভাবে চাঁদ দেখল, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ প্রদান করলাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। রাসূল সা. রোজা রাখলেন এবং রোজা পালনের জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন। (আবু দাউদ : ২৩৪২)। আল্লাহর রাসুল সা. এরশাদ করেন, ‘‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ, চাঁদ দেখেই রোযা ভঙ্গ কর। চাঁদ দেখাকে অভ্যাসে পরিণত কর। যদি চাঁদ না দেখা যায়, তবে ত্রিশ দিন পূরণ কর। যদি দুইজন ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে, তবে তোমরা রোজা রাখ এবং রোজা ভঙ্গ কর।’’ (নাসায়ি : ২১১৬)। তিনি আরও বলেন, ‘‘মাস হল ২৯ রাত্রি। তবে চাঁদ না দেখে তোমরা রোজা রেখ না। যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবানকে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।’’ (বোখারি : ১৮০৮)। তাই আমাদের উচিত শাবানের উনত্রিশ তারিখ দল বেঁধে রমযানের চাঁদ তালাশ করা। মাহে রমযানের চাঁদ দেখার সাথে সাথে এই দোয়া পড়তে হয়। কেননা রমযানকে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে সুন্নত হল, রমযানের চাঁদ দেখে নিম্নের দু’আটি পাঠ করা। ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম।’’ অর্থাৎ- ‘‘হে আল্লাহ, আমাদের উপর তুমি এই নতুন চাঁদকে নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও প্রশান্তি দায়ক রূপে উদিত কর।’’ (তিরমিযি)। মহান আল্লাহ আমাদের উপরোক্ত আলোচনার উপর আমল করার তাওফিক দিন।

– আরবীর প্রভাষক মাওলানা ইসমাইল হোসেন মুফিজী।

বি:দ্র: আমার এই লেখাটি দৈনিক সংগ্রামেও প্রকাশিত হয়েছিল।

One thought on “মাহে রমযানের পূর্বে আমাদের করণীয়

Leave a Reply