ল্যাপটপ / কম্পিউটার কে যত্ন নেওয়ার এবং গতিময় থেকে আরোও গতিময় করার কিছু প্রয়োজনীয় ছোট ছোট টিপস।

বিসমিল্লাহীর রহমানির রাহীম

বর্তমানে কম্পিউটার হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্দ অংশ। তাই আমাদের উচিত এর সঠিক পরিচর্যা করা। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা না হলে কিছু দিন পর কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। তাই আজ আপনাদের সাথে আমার জানা কিছু টিপস শেয়ার করব যা আপনার কম্পিউটারকে করবে আরোও গতিময় (ইনশআল্লাহ)।

1. আপনার পিসিতে একটি ভালো এন্টিভাইরাস সেটআপ দিন। আমার মতে, বর্তমানে এভাস্টই সেরা। তবে সবাই শুধু ফ্রি ভার্সনই ব্যবহার করে। কিন্তু আপনার জন্য আমি প্রফোশনাল মাষ্টার লাইসেন্স ফাইল দিয়ে দিলাম। লাইসেন্স ফাইল ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
2. সবসময় এন্টিভাইরাসকে আপডেট রাখবেন এবং কোন রিমুভএ্যাবল ডিক্স ঢুকানোর সাথে সাথে ভাইরাস কস্ক্যান করে নিন।

3. কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে আপনার অপ্রয়োজনীয় সকল প্রোগ্রাম গুলো রিমুভ করে দিন।

4. কোন এপ্লিকেশান ওপেন করার আগে কম্পিউটারটিকে ঠিকভাবে সম্পূর্ণভাবে বুটআপ হতে দিন।
5. কোন প্রোগ্রাম বন্ধ করার পর উইন্ডোজ ইউজাররা রিফ্রেশ করুন, তাতে অব্যবহৃত ফাইল র‍্যাম থেকে মুছে যাবে।

6. আপনার ঘরটি যদি এসি রুম না হয় তাহলে কম্পিউটার চলাকালীন সময়ে সিপিইউর ঢাকনা খেুলে দিন। এতে আপনার সিপিইউ ঠান্ডা থাকবে। অর্থাৎ এর ফলে কম্পিউটারের স্পীড ভালো থাকাসহ আপনার পার্টসগুলোও ঠান্ডা থাকবে।

7. যারা ল্যাপটপ ইউজ করুন তারা সব সময় ল্যাপটপের জন্য এয়ার কুলার ব্যবহার করবেন যদিও ল্যাপটপগুলোর মধ্যে এয়ার কুলার আছে। তারপরও আপনি 300/400 টাকার মধ্যেই ভালো এয়ার কুলার কিনে ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার ল্যাপটপের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অসাধারণ কাজ করবে।

8. ল্যাপটপ ইউজাররা যদি পারেন প্রতি এক থেকে দেড় ঘন্টা চলার পর আপনার ল্যাপটপটিকে একটু বন্ধ করে 10/15 মিনিটের জন্য বিশ্রাম দিন। এতে আপনার পার্টসগুলো ঠান্ডা থাকবে।

9. ল্যাপটপ একটানা সারাক্ষণ চার্জে না দিয়ে রেখে, যখন ব্যাটারী ফুল হয়ে যায় তখনই চার্জার খুলে ফেলুন। এতে আপনার চার্জারটি , ল্যপটপের চার্জিং আইসি এবং ব্যাটারীর জন্যও ভালো উপকার হবে।

10. নরম সূতি কাপড়কে পানিতে চুবিয়ে ভালো করে চিপিয়ে পানি ঝেরে ফেলে দিয়ে অর্থাৎ একদম হালকা ভিজা কাপর দিয়ে আপনার মনিটরকে পরিষ্কার করুন। তবে সাবধান কোনভাবেই যেন পানি ভিতরে না যায়। তবে এখন অনেক রকমের মেডিসিনই পাওয়া যাচ্ছে মনিটর পরিষ্কার করার জন্য তবে আমি এখনও পূর্ব প্রচলিত প্রথাটিই ব্যবহার করি।

11. ডেক্সপটে ওয়াল পেপার দিতে চাইলে কম কেবির একটি ওয়াল পেপার সেট করে দিন। এক্ষত্রে উইন্ডোজের সাথের ওয়ালপেপার গুলোই ভালো।

12. ডেস্কটপে আইকন দিয়ে হিজিবিজি করার কোন প্রয়োজন নেই। কারন প্রতি 2টি আইকনের জন্য র‌্যামের1 কিলোবাইট জায়গা দখল হয়ে থাকে।

13. সব সময় দুটা ড্রাইভে সফটওয়ার ইনষ্টল করবেন। ছোট গুলো সি ড্রাইভে বা মেইন ড্রাইভে আর বড়ো বড় সফট যেমন PSP, Photoshop, 3DS Max ইত্যাদি। কারন সি ড্রাইভের ফ্রি স্পেস ভার্চুয়াল মেমরি হিসেবে কাজ করে, যখন র‍্যাম ফুল ইউজ লিমিট হয়ে যায়। তাই উচিত সি ড্রাইভ যতখুশি খালি রাখা।

14. সি-ড্রাইভ কে পরিষ্কার রাখত আপনার টেম্পোরারী ফাইল গুলো ডিলেট করতে হবে। তাই আপনার কম্পিউটারের Run গিয়ে লিখুন %temp% এবং এন্টার চাপুন এখন যেই উইন্ডোটি ওপেন হবে তারমধ্যে যত ফ‍াইল আছে সবই ডিলেট করুন। যেগুলো ডিলেট হতে চাইবে না সেগুলো ডিলেট করার কোন প্রয়োজন নাই। এখন আবার Start মেন্যু থেকে Run গিয়ে লিখুন temp এবং এন্টার চাপুন আর সবই ডিলেট করুন। এভাবে prefetch , recent প্রভূতি ফোল্ডার থেকেও সকল ফাইল ডিলেটকরুন।

15. এবার আবার আপনার Run এ গিয়ে লিখুন help এবং এন্টার দিন, আবার আপনার Run এ গিয়ে লিখুন tree এবং এন্টার দিন, আবার আপনার Run এ গিয়ে লিখুন tree.com এবং এন্টার দিন, আবার আপনার Run এ গিয়ে লিখুন sfc এবং এন্টার দিন।

16. নিয়মিত রিসাইকেল বিন থেকে ফাইল পরিপূর্ণ ভাবে মুছে দিন, কারন হার্ড ডিস্ক এটা রিসাইকেল বিনে থাকলে জায়গা দখন করে থাকে না মুছা পর্যন্ত।

17. ইন্টারনেট টেম্পরারি ফাইল নিয়মিত মুছুন।

18. প্রতি মাসে সম্ভব না হলে ২ মাসে অন্তত একবার হার্ডডিস্ক ডিফ্রেগ করে নিন, এটা যেমন আপনার হার্ড ডিস্কে জায়গা বাড়াতে সাহায্য করবে তেমন পিসির গতি ও করবে দ্রুততর।

19. সফটওয়ার সেটাপের সময় ট্রে আইকন এবং অটো লোড এই দুইটা অপশন ডিজেবল করে দিতে হবে, কারন এটা র‍্যামের যেমন লোডবাড়ায়, আবার বুট আপের সময় ও বারিয়ে দেয়। অবশ্য সেটাপ কৃত সফট ও অটো লোড বন্ধ করা যায়, সফটির টুলস বা প্রিপফারেন্স থেকে।

20. UPS ব্যবহার করা কম্পিউটারের জন্য একটি ভালো কাজ। এতে আপনার কম্পিউটারটি হঠাৎ বিদ্যুতিক শক বা লোডশেডিং এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং আপনার সিপিইউর পাওয়ার সপ্লাই সুরক্ষিত হবে।

21. কম্পিউটারটিকে ময়লা ও ধুলা বালু থকে দূরে রাখুন, কারন এতে হার্ডওয়ারের মধ্যে ময়লা জমে কার্যক্ষমতা কমে যায়, আর কুলিং ফ্যানের কার্যক্ষমত হ্রাস পেলে পিসি অনেক উত্তপ্ত হয়ে যাবে, আর তা পুরো সিষ্টেম পারফরমেন্সকে প্রভাব ফেলবে। তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন রাখতে হবে পিসিটিকে।

22. কিছুদিন পর পর এয়ার স্প্রেয়ার দিয়ে সিপিইউটিকে ধুলা বালি থেকে মুক্তি দিতে হবে।

আপনাদের যদি আরোও জানা কোন টিপস থাকে তাহলে আমার সাথে শেয়ার করতে ভূলবেন না কিন্তু।

ভাই আমিওতো আপনারই মতই একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তাই আমার কি ভূল-ত্রূটি হতে পারে না?

আল্লাহ-হাফেজ।

ইচ্ছে হলে একবার আমার সাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন www.pchelpcarebd.blopgspot.com

মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম রনি

#আমার সম্পর্কে তেমন কিছু বলার নেই। তবে নিজেকে মহান আল্লাহ-তায়ালার একজন নগণ্য বান্দা হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসি। আমার একটি অন্যতম শখ হচ্ছে, বেশী থেকে বেশী প্রযুক্তিকে জানতে ও জানাতে। এর প্রয়াসেই বিভিন্ন ব্লগে পোষ্ট করে থাকি। একবার আমার ব্লগ সাবাইকে দাওয়াত- www.pchelpcarebd.blogspot.com # দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণ করো।----- আলহাদীস। প্রযুক্তির সূরে মেতে উঠুক, বাংলার প্রতিটি মানুষ.......

More Posts - Website

Follow Me:
Facebook

2 thoughts on “ল্যাপটপ / কম্পিউটার কে যত্ন নেওয়ার এবং গতিময় থেকে আরোও গতিময় করার কিছু প্রয়োজনীয় ছোট ছোট টিপস।

Leave a Reply